মনোনয়নপত্র জমা দিলেন শামীম, আইভী ও তৈমুর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন শামীম ওসমান, সেলিনা হায়াত আইভী ও তৈমুর আলম খন্দকার। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে আজ রোববার চাষাড়া জিয়া হল মিলনায়তনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে বেলা তিনটার দিকে শামীম ওসমান, আড়াইটার দিকে সেলিনা হায়াত আইভী এবং বেলা একটার দিকে তৈমুর আলম খন্দকার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং অফিসার বিশ্বাস লুত্ফর রহমান মেয়র পদে এই তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত পৌর কাউন্সিলর পদে ১১৮ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনে ২২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শামীম ওসমান বলেন, ‘নির্বাচন হবে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ। কোনো যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা হবে না। এটি হবে উত্সব উত্সব খেলা। তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দেবেন, আমি তা মেনে নেব।
দলীয় সমর্থনের ব্যাপারে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সব আমার সঙ্গে আছেন। কাজেই নেত্রী আমাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে আমি আশা করি।
দলের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে তিনি কী করবেন, জানতে চাইলে শামীম বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল, আমি সেই দলের একজন ছোট কর্মী। আমি বুঝি কেউ বাইরে গেলে তিনি যত বড় হোক না কেন, হারিয়ে যাবেন।
তাতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই তা হবে। এর ফলে প্রগতিশীল শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লাভবান হবে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি।
সেনা মোতায়েন সম্পর্কে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য জাতিসংঘ বাহিনীও আনবে, আমার তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু আমার আস্থা রয়েছে এই নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে পারবে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে সেলিনা হায়াত আইভী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের জনগণ আমার সঙ্গে আছে। আমি এই জনগণকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
দলের মনোনয়ন না পেলে নির্বাচন করবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলীয় সমর্থন পাওয়ার ব্যাপারে আমি পুরোপুরি আশাবাদী। দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলেই আমি নির্বাচন করতে এসেছি।’ বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সমর্থন পেলে নেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য আমার অন্য কোনো দলের সমর্থনের প্রয়োজন আছে। আমার বাবা আলী আহমেদ কখনো দল ছেড়ে যাননি। বরং দলের বিপদে তিনি যেমন ছিলেন আমিও তেমন থাকব। আমরা কখনো দলের বিপদে পালিয়ে যাব না।’
স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে আবারও অভিযোগ তুলে আইভী বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ আছে। তার পরও নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে, তারা কঠোর অবস্থানে থেকে একটি সুস্থ নির্বাচন করবে তাহলে আমার আর কিছু বলার নেই। আর সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবি। আমার মনে হয়, সেনা মোতায়েন থাকলে মানুষ অনেক আশ্বস্ত হবে।’
রিটার্নিং অফিসার বিশ্বাস লুত্ফর রহমান বলেন, ‘অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন। এতে আমি অভিভূত। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় নারায়ণগঞ্জের প্রার্থীরা আইনের প্রতি অনেক শ্রদ্ধাশীল। আমি আশা করব, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন তাঁরা এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া উপলক্ষে চাষাড়া জিয়া হল মিলনায়তনের সামনে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানা গেছে, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৪ ও ৫ অক্টোবর। আর প্রত্যাহারের শেষ দিন ১২ অক্টোবর। ৩০ অক্টোবর ভোট গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার পর্যন্ত সরকারি দল আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থীকেই আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়নি। দলের সমর্থনের অপেক্ষায় আছেন সাবেক পৌর মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী ও সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান। তবে শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের সমর্থন পাচ্ছেন বলে দলীয় কয়েকটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

 

সূত্রঃ প্রথম আলো | ২ অক্টোবর ২০১১

This entry was posted in প্রথম আলো. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s