আলোচনায় আইভী-শামীম

কয়েক দিনের নাটকীয়তার পর অবশেষে অপেক্ষার প্রহর ফুরাল। নারায়ণগঞ্জবাসী জানলেন, সেলিনা হায়াত আইভী ও শামীম ওসমান দুজনেই নির্বাচন করছেন। আর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এখনো কাউকেই সমর্থন দেয়নি।
তবে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত দুই প্রার্থীর পাশাপাশি আলোচনায় আছেন আরেকজন। তিনি বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার। এখন অপেক্ষা ৩০ অক্টোবরের। ওই দিন নগরবাসী ঠিক করবেন, কে হবেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল কাল। কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। দুই প্রার্থীকে ডেকে সাংসদ ও মন্ত্রী করার আশ্বাস দেওয়া হলেও কেউ সরে দাঁড়াননি।
শেষ পর্যন্ত দুজন প্রার্থীই রয়ে গেলেন। তাহলে এখন আওয়ামী লীগ কাকে কীভাবে সমর্থন দেবে, এর জবাবে দলের নেতারা স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। তবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির সঙ্গে সংগতি রেখে প্রার্থী সমর্থনে কৌশলগত অবস্থান নেবে দল। কোন প্রার্থীর পক্ষে দলীয় সমর্থন আছে, আজ-কালের মধ্যে তা পরিষ্কার হবে বলে জানান তিনি।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুৎফর রহমান গতকাল বিকেল সোয়া পাঁচটায় প্রথম আলোকে বলেন, সেলিনা হায়াত আইভী ও শামীম ওসমান—দুজনের কেউ-ই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট আটজন মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। গতকাল আওয়ামী ওলামা লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী ও জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে এই নির্বাচনে এখন মেয়র পদপ্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ছয়।
তাঁরা হলেন: সেলিনা হায়াত আইভী, শামীম ওসমান, তৈমুর আলম খন্দকার, আতিকুল ইসলাম নান্নু মুন্সী, আতিকুল ইসলাম ও শরিফ আহমেদ।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আজ বৃহস্পতিবার মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হবে। মেয়র পদপ্রার্থী আইভী দোয়াত-কলম এবং শামীম ওসমান দেয়ালঘড়ি প্রতীকের জন্য আবেদন করেছেন। তৈমুর আলম চেয়েছেন আনারস।
ডাকবাংলোর সামনে অপেক্ষা: নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া ডাকবাংলোয় সকাল থেকে উৎসাহী দলীয় কর্মী, সাংবাদিক আর এলাকাবাসীর ভিড় ছিল। আশপাশের বাসিন্দারা কিছুক্ষণ পর পর এসে খোঁজ নিচ্ছিলেন, সর্বশেষ কে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন। সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত লোকজন সেখানে ভিড় করে ছিলেন। আর জানতে চাইছিলেন আইভী বা শামীম ওসমান—কেউ সরে দাঁড়ালেন কি না।
দুপুর দুইটার দিকে আওয়ামী ওলামা লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী এসে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দল থেকে বলায় আমি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
বিকেলে এস এম আকরামের পক্ষে নেতা-কর্মীরা এসে তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এস এম আকরাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘দল থেকে বলায় আমি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হয়ে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুৎফর রহমান। বলেন, ২৫৫ জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর মধ্যে ১৭ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের ৫৬ জনের কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।
লুৎফর রহমান আরও বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে নয়টি টহলদল কাজ করছে। কাল শুক্রবার থেকে ২৭টি ওয়ার্ডে ২৭টি টহলদল কাজ করবে। নির্বাচনের তিন দিন আগে থেকে ৩৬টি মুভি ক্যামেরা কাজ করবে সিটি করপোরেশন এলাকায়। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণের ক্ষেত্রে ১৪ অক্টোবর থেকে কঠোর অবস্থানে যাবে কমিশন।
অনড় আইভী: সাবেক পৌর মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী দল থেকে একক সমর্থন পাবেন বলে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও কেন্দ্র নীরব থাকে। কয়েক দিন ধরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য নানাভাবে চাপ এলেও তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।
কাল সারা দিন আইভীর সঙ্গে সাংবাদিকেরা যোগাযোগ করতে পারেননি। বারবার দেওভোগের বাসায় গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বিকেল পাঁচটার দিকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর সেলিনা হায়াত আইভী শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় এসে হাজির হন। এ সময় উল্লাসে ফেটে পড়ে জনতা। চারপাশে ‘আইভী আইভী’ স্লোগান শোনা যায়। এখান থেকে আইভী শহরের শহীদনগর এলাকায় গিয়ে জনসংযোগ করেন।
ওই সময় সেলিনা হায়াত আইভী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমার সঙ্গে আছে। আমি এই মানুষগুলোর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। কাজেই ভয়ভীতি, চাপ—সব উপেক্ষা করে আমি নির্বাচন করব।’
শামীম ওসমানের প্রচারণা: সকালে শামীম ওসমান বন্দর উপজেলার ঢাকেশ্বরী এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালান। বিকেলে তিনি শহরের হাজীগঞ্জ ও কিল্লারপুল এলাকায় গণসংযোগ করেন।
শামীম ওসমান দাবি করেন, তাঁর প্রতি দলের সমর্থন রয়েছে। এই নির্বাচনে তিনিই বিজয়ী হবেন।
তৈমুরের গণসংযোগ: বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার কাল শহরের জামতলা শাহীন ডাক্তার গলি, শুক্কুরকারী মসজিদসংলগ্ন এলাকা, সর্দার বাড়ি, দেওভোগ আখড়া, পালপাড়া, দিগুবাবুর বাজার ও সিদ্ধিরগঞ্জ চৌধুরীবাড়ি এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালান। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনিও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৭ কাউন্সিলর সরে দাঁড়ালেন: কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের মধ্যে ১৭ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তাঁরা হলেন: ২ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমুদ্দিন; ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের এস এম নিজামউদ্দিন, মো. তোফাজ্জল হোসেন; ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের আজমত উল্লাহ খন্দকার ও দেলোয়ার হোসেন; ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আশু, রফিকুল ইসলাম ঢালী, শফিকুল ইসলাম মুকুল; ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আরিফুর হাসান; ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সালাউদ্দিন; ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মজিবুর রহমান, এস এম আসলাম, ইয়াকুব আলী, মজিবুল হক মুন্সী; ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর আলম; ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মনজুর হোসেন এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আজহারুল ইসলাম।

 

সূত্রঃ প্রথম আলো | ১৩ অক্টোবর ২০১১

This entry was posted in প্রথম আলো. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s