অর্ধশত সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু চোরাকারবারী কাউন্সিলর প্রার্থী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অর্ধশতাধিক চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভূমিদসু্য ও চোরাই জ্বালানি তেলের কারবারী কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় অসংখ্য মামলা আছে। চিহ্নিত এসব সন্ত্রাসী প্রার্থী হওয়ায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, আইনের ফাঁকফোকরে তারা প্রার্থী হয়েছেন। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। তাদের সর্বক্ষণিক নজরে রাখা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, সাদা পোশাকে সব সময় এসব সন্ত্রাসীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নির্বাচনের মাত্র ১১ দিন বাকি। প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচার চালাচ্ছেন। মঙ্গলবার শামীম ওসমান শহরে প্রচার চালিয়েছেন। আরেক প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভীও শহরে প্রচার চালিয়েছেন। তৈমুর আলম খন্দকার গণসংযোগ করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জে। মঙ্গলবারও ইভিএম প্রদর্শন করা হয়েছে বিভিন্ন কেন্দ্রে। দ্বিতীয় দিনেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম।
সন্ত্রাসীদের নিয়ে আতঙ্ক ॥ ১ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মোঃ রওশন আলী। তাঁর বিরম্নদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যা, হত্যার চেষ্টা ও চুরির অভিযোগে মোট চারটি মামলা আছে। এছাড়া অতীতে চুরি, মাদক পাচার ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে চারটি মামলা ছিল। এলাকায় তিনি ভূমিদসু্য হিসেবে পরিচিত। ২০০২ সালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। তাঁর বাড়ি থেকে শতাধিক জাল দলিল উদ্ধার করে পুড়িয়ে দেয়া হয়। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তিনি জড়িত। এখন তিনি স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার আত্মীয় বলে পরিচয় দেন।
৩ নম্বর ওয়ার্ডে আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মাহবুবুর রহমান লাল চাঁন। বর্তমানে তাঁর বিরম্নদ্ধে একটি জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা বিচারাধীন। অতীতে তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি। ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে এ ওয়ার্ডে নির্বাচন করছেন তোফায়েল হোসেন। তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটি প্রত্যাহার করেছে। পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন শাহজালাল ওরফে বাদল। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজি ও সরকারী কাজে বাধাদানের অভিযোগে দুটি মামলা আছে। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও খুনের একটি মামলা ছিল।
শাহজালালের বাবা নুর সালামও এই নির্বাচনে প্রার্থী। তাঁর বিরম্নদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা আছে। কাঁচপুর সেতুর নিচে অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে তিনি জড়িত। তিনি একাধিক মামলার আসামি ও সন্ত্রাসী নূর হোসেনের আপন ভাই। এলাকায় তিনি ভূমিদসু্য বলে পরিচিত।
সিদ্ধিরগঞ্জ পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নূর হোসেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এক সময়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এখন পরিচয় দেন আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে। ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্টও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে তাঁর বিরম্নদ্ধে দুর্নীতির তিনটি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা আছে। অতীতে তাঁর বিরম্নদ্ধে খুন, মারামারি, চুরি, ভাংচুর, চাঁদাবাজি এসব অভিযোগে ১০টি মামলা ছিল। বিএনপির সময়ে তিনি পলাতক ছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি এলাকায় আসেন এবং কাঁচপুর ব্রিজের নিচে শীতলক্ষ্যা দখল করে অবৈধ বালুর ব্যবসার মূল হোতা তিনি।
মোরগ প্রতীক নিয়ে এ ওয়ার্ডে নির্বাচন করছেন আইয়ুব আলী মুন্সি। তাঁর বিরম্নদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, চুরি, মারামারি এসব অভিযোগে তিনটি মামলা আছে। তিনি বিএনপির আমলে পরিবহন সন্ত্রাসী ছিলেন। সে সময় শিমরাইলে তিনি পরিবহন চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন। কিছুদিন আগে জাল টাকাসহ তিনি গ্রেফতার হন।
এ ওয়ার্ডেই ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে নির্বাচন করছেন নজরম্নল ইসলাম ওরফে বুইট্যা নজরম্নল। তিনি এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী।
৫ নম্বর ওয়ার্ডে বক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আবদুর রাজ্জাক মেম্বার। তাঁর বিরম্নদ্ধে বর্তমানে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা আছে এবং এ মামলায় তিনি জামিনে আছেন। জামিন বাতিল হলেই তিনি গ্রেফতার হতে পারেন। এছাড়া অতীতে মারামারি ও হত্যার দুটি মামলা ছিল তাঁর বিরম্নদ্ধে। এর মধ্যে হত্যা মামলাটি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে এ ওয়ার্ডে নির্বাচন করছেন আসাদুজ্জামান আসাদ। তাঁর বিরম্নদ্ধে চুরি ও মারামারির অভিযোগে বর্তমানে দুটি মামলা আছে। অতীতে চাঁদাবাজির একটি, চুরির একটি এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুটি মামলা ছিল।
৭ নং ওয়ার্ডে সিংহ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আলাউদ্দিন মেম্বার। তঁাঁর বিরম্নদ্ধে অতীতে একটি হত্যা মামলা থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরম্নদ্ধে চুরি ও অগি্নসংযোগ, হত্যার চেষ্টা ও মারামারি এবং জখমের অভিযোগে তিনটি মামলা আছে। এগুলোতে তিনি জামিনে আছেন।
এ ওয়ার্ডে আলী হোসেন আলা ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে নির্বাচন করছেন। তাঁর বিরম্নদ্ধে বর্তমানে সরকারী কাজে বাধাদান ও বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা আছে। অতীতে তাঁর বিরম্নদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং মাদকের একটি মামলা ছিল।
পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন করছেন মতিউর রহমান। এলাকায় তিনি ‘সুন্দর মতি’ নামে পরিচিত। যুবলীগ নেতা হিসেবে তিনি পরিচয় দেন নিজেকে। তাঁর বিরম্নদ্ধে বিস্ফোরক আইনে একটি, অপহরণের একটি এবং হত্যার অভিযোগে একটি মামলা আছে। জামিন নিয়ে তিনি নির্বাচন করছেন। অতীতে তিনি ছয়টি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। এছাড়া বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে তিনটি এবং চুরি ও মারামারির অভিযোগে ১০টিসহ সব মিলিয়ে মোট ২১টি মামলার আসামি তিনি।
মামলার দিক থেকে দ্বিতীয় অখিলউদ্দিন ভঁূইয়াও এ ওয়ার্ডে কার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। বর্তমানে তাঁর বিরম্নদ্ধে মোট ১০টি মামলা আছে। এর মধ্যে হত্যার একটি এবং হত্যার চেষ্টা ও জখমের অভিযোগে আছে পাঁচটি মামলা। এছাড়াও পুলিশের কাজে বাধাদান, চুরি, চোরাই মাল উদ্ধার এবং বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা আছে। অতীতে তাঁর বিরম্নদ্ধে চুরি, মারামারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনটি মামলা ছিল। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
এ ওয়ার্ডে মোরগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আরেক প্রার্থী আবু খান। এলাকায় তিনি সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরম্নদ্ধে মারামারি ও হত্যাচেষ্টা, শস্নীলতাহানির অভিযোগে তিনটি মামলা ছিল। তিনি সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তাঁর ভাই গুলু মেম্বার ছিল এলাকার আরেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী। দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন। এ ওয়ার্ডে আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি অবৈধ জ্বালানি তেলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
৮ নম্বর ওয়ার্ডে মোরগ প্রতীক নিয়ে এখানে নির্বাচন করছেন কাজী গোলাম আযম। তাঁর বিরম্নদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও মারামারির দুটি মামলা ছিল।
১১ নম্বর ওয়ার্ডে পদ্মফুল নিয়ে নির্বাচন করছেন ওমর খৈয়াম ওরফে চঞ্চল। তাঁর বিরম্নদ্ধে মারামারি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুটি এবং হত্যার অভিযোগে একটি মামলা বিচারাধীন।
১২ নম্বর ওয়ার্ডে শওকত হাসেম ওরফে শকু আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। বর্তমানে তিনি হত্যার একটি, বিস্ফোরকের একটি, মারামারি ও ভাংচুরের একটি এবং চুরির অভিযোগে একটি মামলার আসামি। অতীতে ভাংচরু, চুরি ও মারামারির অভিযোগে পাঁচটি এবং সরকারী কাজে বাধাদানের অভিযোগে একটি মামলা আছে। এছাড়া অস্ত্র আইনে তাঁর বিরম্নদ্ধে একটি মামলা ছিল। সাতটি মামলার মধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
১২ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুড়ি প্রতীকধারী নাসির উদ্দিনের বিরম্নদ্ধে ভাংচুর, চুরি ও জখমের অভিযোগে দুটি, ডাকাতির একটি এবং বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা ছিল। ১৩ নম্বর আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মনিরম্নজ্জামান শাহীন। বর্তমানে তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি। এছাড়া অতীতে একটি হত্যা, একটি চাঁদাবাজি, একটি অস্ত্র আইনে এবং বিস্ফোরক আইনে তাঁর বিরম্নদ্ধে একটি মামলা ছিল।
২০ নম্বর ওয়ার্ডে আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মনোয়ার হোসেন শোখন। তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
বন্দর থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী শাহেন শাহ এ ওয়ার্ডে পদ্মফুল নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি একটি অস্ত্র মামলার আসামি এবং এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী।
২১ নম্বরে বক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আজিজুল হক। এছাড়া তাঁর বিরম্নদ্ধে একটি হত্যা মামলা, একটি চাঁদাবাজির এবং একটি মারামারির মামলা ছিল। এছাড়া হাতি প্রতীকধারী আবদুর রশিদ একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। এলাকায় তিনি ভূমিদসু্য হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরম্নদ্ধে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে জমি দখলের অভিযোগ আছে।
২২ নম্বর ওয়ার্ডে হাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন খান। বর্তমানে তার নামে মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা আছে। তিনি জামিন নিয়ে নির্বাচন করছেন। অতীতে বিস্ফোরক আইনে একটি এবং হত্যার ঘটনায় একটি মামলা ছিল তাঁর বিরম্নদ্ধে। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে সিংহ প্রতীকধারী সাইফুদ্দিন আহমেদের বিরম্নদ্ধে বর্তমানে খুন ও ডাকাতির একটি মামলা চলছে। অতীতে একটি হত্যা মামলা থাকলেও খালাস পেয়েছেন তিনি।
২৪ নম্বর ওয়ার্ডে পদ্মফুল নিয়ে নির্বাচন করছেন মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ আসাদ। তাঁর বিরম্নদ্ধে চুরি ও মারামারির অভিযোগে একটি, মাদকদ্রব্য আইনে একটি এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা অছে। এ ওয়ার্ডের হাতি প্রতীকধারী মোহাম্মদ জামান খানের বিরম্নদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে একটি, চুরি ও হুমকির অভিযোগে দুটি মামলা আছে।
২৭ নং ওয়ার্ডে করাত প্রতীকধারী ওয়াহিদুজ্জামান সেলিমের বিরম্নদ্ধে বর্তমানে দুটি হত্যা এবং চুরি ও মারামারির একটি একটি মামলা আছে। অতীতে তাঁর বিরম্নদ্ধে মারামারি ও গুরম্নতর জখমের চারটি মামলা ছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুৎফুর রহমান বলেন, ‘মামলা থাকার কারণে কিংবা সন্ত্রাসী এমন অনেকরই প্রাথমিক মনোনয়নপত্র আমরা বাতিল করেছিলাম। কিন্তু পরে আদালত থেকে তারা নির্দেশনা নিয়ে এসেছে। এক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু নেই। এছাড়া যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে তাদের মনোনয়নপত্র নিয়ম অনুযায়ী বৈধ করা হয়েছে। তবে সন্ত্রাসী ও এসব মামলার আসামিরা যেন কোনভাবে নির্বাচনে সমস্যা করতে না পারে সেজন্য নির্বাচন কমিশন কঠোর নজরদারি রাখবে। কারণ আমরা যে কোন মূল্যে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর।
সন্ত্রাসী ও মামলার আসামিদের নির্বাচন করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সহ-সভাপতি রফিউর রাব্বী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ কয়েক সন্ত্রাসীসহ অনেক মামলার আসামিরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ভোটাররা বিষয়টি নিয়ে উৎকণ্ঠিত। আমরা তাই পুলিশ প্রশাসনকে এদের ব্যাপারে সর্বক্ষণিক খোঁজখবর নেয়ার অনুরোধ করছি। নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত তিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব সন্ত্রাসীকে চেনে। কিন্তু তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন না। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থেই এসব সন্ত্রাসীর ব্যাপারে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।
জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কয়েক শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ অনেক মামলার আসামি এমন লোকজন কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আমরা তাদের সর্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখছি। সব সময়ে সাদা পোশাকের লোকজন তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। তাদের বলা হয়েছে নির্বাচনের আচরণবিধি পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। এদিক-সেদিক করলেই আমরা ব্যবস্থা নেব। কারণ আমরা শানত্মিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নারায়ণগঞ্জ কমিটির আহ্বায়ক আহসানুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনে সৎ মানুষ নির্বাচিত হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন এটাই প্রত্যাশা। কিন্তু অনেক সন্ত্রাসী ও মামলার আসামিরাও অংশ নিচ্ছেন। এখন প্রার্থীদের তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতা আছে। আমরা প্রতি ওয়ার্ডে গিয়ে কাউন্সিলরদের সব তথ্য সাধারণ মানুষকে জানাব। আমরা চাই ভোটারদের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে। এসব তথ্য দেখে ভোটাররাই সিদ্ধানত্ম নেবেন কাকে তারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন।’
প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা ॥ শামীম ওসমান মঙ্গলবার শহরের কালীবাবাজর, ফলপট্টি, চেম্বার রোড, নয়ামাটি, ডিআইটি, পুরানো পালপাড়া, কেরোসিন ঘাট, ডালপট্টি এলাকায় গণসংযোগ চালান। তিনি দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কলেজে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ কলেজ ভবনের গবর্নিংবডির সভাপতি আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, সদস্য মোসত্মফা কামাল, মহিবুল ইসলাম মন্টু, হাজী জাহিদ, নাজমুল হেসেন ভুঁইয়া ও বকুল হোসেন।
সেলিনা হায়াত আইভী মঙ্গলবার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেওভোগ, বাবুরাইল, ২ নম্বর বাবুরাইল এসব এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক নিজামুদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম আরাফাত।
অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ৭ নং ওয়ার্ডের গোদনাইল, কদমতলী, উত্তরপাড়া, কাশেমপাড়া, সফর আলী ভূঁইয়ার বাড়ি, কলেজপাড়া, আদমজী গোরস্তানসংলগ্ন এলকায় গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, জামায়াত নেতা মাওলানা মাইনুদ্দিন আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল, আব্দুল হাই রাজ ও শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল।
ডা. আইভীর অভিযোগ ॥ মঙ্গলবার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেয়া লিখিত অভিযোগে আইভী দাবি করেন, চাষাঢ়ার মূল রাস্তার মোড়ে, সিদ্ধিরগঞ্জ ১ ও ২ নম্বর এলাকায় তাঁর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ফেস্টুন খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিপক্ষ তাঁর নামে চার রঙের পোস্টার ছাপানোর ষড়যন্ত্র করছে। এমনকি প্রতিপক্ষের প্রার্থীদের পোস্টারে তাঁর পোস্টার লাগিয়ে তাঁর বিরম্নদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুৎফর রহমান বলেছেন, মেয়রপ্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভীর অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সূত্রঃ জনকণ্ঠ

This entry was posted in জনকণ্ঠ. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s