জমে উঠছে ভোট উত্সব : মোবাইলে ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের তথ্য : ভোটাররা বলছেন প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজই মুখ্য

নারায়ণগঞ্জে এখন জমে উঠেছে ভোট উত্সব। নাসিক এলাকার ২৭ ওয়ার্ডেই সকাল থেকে রাত অবধি চলছে প্রচারণা। মেয়র প্রার্থী ও সমর্থকরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, চাইছেন ভোট সমর্থন। দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলছে মাইকিং। ভোটের গান-স্লোগানে মুখর এ বন্দর নগরী। সুরে সুরে চলছে ভোট চাওয়া। রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজই প্রধান বিষয় হয়ে উঠছে ভোটারদের কাছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমর্থক ভোটারদের মধ্যে গত কয়েক দিনের অনুসন্ধানে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ভোটাররা এবার তিনজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তুলনামূলক ভালো মানুষকে নির্বাচিত করতে চান। সেক্ষেত্রে দলীয় সমর্থনের বিষয়টি তারা বিবেচনায় আনতে রাজি নন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজই হয়ে উঠতে পারে জয়-পরাজয়ের মানদণ্ড। এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নাসিক নির্বাচনে ভোট দিতে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে না। মোবাইলে পাওয়া যাবে ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের তথ্য।
বন্দর ২১নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটার আতিকুল্লাহ মাসুদ জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ প্রার্থীর মধ্যে যার কর্মকাণ্ড নিয়ে বির্তক রয়েছে আমি তাকে প্রত্যাখ্যান করব। দল ভুল করলেও আর আমরা তাদের কথামত একই পথে পা বাড়াব না। সেদিন এখন আর নেই। আমি আওয়ামী লীগ-বিএনপি বুঝি না, যে ভালো লোক তাকে অবশ্যই ভোট দেব। তবে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আমার ভোট পাবেন।
বন্দর এলাকার ২২নং ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থক গৃহবধূ দিলারা কামাল বলেন, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ যাকে খুশি সমর্থন দিক না কেন, আমার পরিবারের ভোটগুলো ৩ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে যে ভালো মানুষ তাকেই দেব।
নবীগঞ্জ এলাকার ভোটার কাজল বলেন, আমাদের পরিবারটি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে দীর্ঘদিন থেকে। এবার দলের সমর্থন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা যে অবস্থার সৃষ্টি করেছেন তাতে আমরা বিরক্ত। তাদের এ সিদ্ধান্তহীনতার জবাব দিতে এবার আমরা ঠিক করেছি প্রার্থীদের মধ্যে যে এলাকার জন্য কাজ করবেন, যাকে নিয়ে কোনো বির্তক নেই এবং যার মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই তাকেই ভোট দেব। আমাদের এলাকাটি সিটি করপোরেশনে সংযোজন করা হয়েছে। ফলে কোন প্রার্থীকে দিয়ে উন্নয়ন হবে, তা আমরা বুঝে ফেলেছি। দলের সমর্থন নয়, ভালো প্রার্থীই এবার ফ্যাক্টর।
সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের ভোটার কলেজছাত্রী ইভা ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান দলীয় সমর্থন পেয়েছেন—এটি তিনি নিজেই প্রচার করছেন। এখন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জে আসছেন তার সমর্থনে। এতে আইভী বনাম আওয়ামী লীগের লড়াইয়ের বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের কাছে পরিষ্কার হয়ে উঠছে। এক্ষেত্রে যিনি সাধারণ মানুষ ও এলাকার জন্য ভালো হবেন, তাকেই ভোট দেয়া উচিত।
গোদনাইল মীরপাড়া এলাকার ১০নং ওয়ার্ডের ভোটার আমজাদ হোসেন বলেন, একজন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা অপর এক প্রার্থীর নাম উচ্চারণ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন—তিনি নির্বাচিত হলে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-জামায়াত মৌলবাদীদের রাজত্ব কায়েম হবে। আমরা কোনো হিংসাত্মক রাজনীতি চাই না। এ ধরনের মন-মানসিকতার প্রার্থীকে নারায়ণগঞ্জবাসীর উচিত প্রত্যাখ্যান করা। এ অবস্থা চলতে থাকলে রাজনীতিতে ভালো মানুষ এগিয়ে আসবেন না।
জামতলা এলাকার ১৩নং ওয়ার্ডের ভোটার ক্যামিলিয়া আক্তার বলেন, ৩ মেয়র প্রার্থীকেই আমরা চিনি। তারা কে কোন মোটিভে রাজনীতি করেন, তা-ও আমরা জানি। দল এখানে কোনো ফ্যাক্টর নয়। আমরা চাই সন্ত্রাসমুক্ত নারায়ণগঞ্জ।
শহরের নন্দীপাড়া এলাকার ১৪নং ওয়ার্ডের ভোটার জাকিরুল আলম বলেন, এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দলীয় সমর্থন নিয়ে ভাবার কোনো কারণ নেই। এমপিরা এলাকার উন্নয়ন করেন না—তারা আইন প্রণয়ন করেন। কিন্তু সিটি করপোরেশনের মেয়র পদটির সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন জড়িত। তিন প্রার্থীর মধ্যে একজনের মেয়র হিসেবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আমরা দেখেছি। অপর দুই প্রার্থী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ঘোষণা দিয়েছেন। একজনকে দেখেছি, দু’জনের কথা শুনছি। তাই বিবেচনা করেই ভোট দেব।
গানে-স্লেম্লাগানে মুখর নরায়ণগঞ্জ : শহরের বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে প্রার্থীরা তাদের পোস্টার সাঁটাতে শুরু করেছেন। কে কার আগে সেগুলো সাঁটাবেন তা নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা। প্রার্থীরা তাদের প্রতীকগুলো ড্যামি আকারে তৈরি করে নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রদর্শন করেছেন।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবখানে ছেয়ে গেছে পোস্টারে। মোড়ে মোড়ে রয়েছে প্রার্থীদের পক্ষে বড় বড় ব্যানার আর বিলবোর্ড। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলররাও গণসংযোগে দিনরাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে কোনো প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন কি না, সেদিকে তীক্ষষ্ট নজর রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের। ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একজন করে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠন করা টিম প্রার্থীদের কাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমূরের গণসংযোগ : বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ৫, ৬, ১৭, ১৮নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে তৈমূর আলম খন্দাকার বলেন, আমি মেয়র নির্বাচিত হলে নারায়ণগঞ্জবাসীকে একটি পরিকল্পিত নগরী উপহার দেব ইনশাল্লাহ। তৈমূর গতকাল নারায়ণগঞ্জ সদর থানার কাচারিগলি, ঋষিপট্টি, খোয়ারপট্টি, রেলওয়ে থান মার্কেট, রিভারভিউ মার্কেট এলাকায় সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গণসংযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে আরও ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাইনুদ্দিন আহম্মেদ, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, অ্যাডভোকেট হামিদ খান ভাসানী, নুরুল হক চৌধুরী দিপু, হাজী শাহীন ও আনোয়ার দেওয়ান। অন্যদিকে তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে আনারস মার্কায় ভোট চেয়ে ১৩নং ওয়ার্ডের শহীদ শাব্বির আলম খন্দকার সড়কে গণসংযোগ করেন জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র পরিষদের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন খান, ছাত্রনেতা মো. রফিকুল ইসলাম সুমন, আলমগীর উদ্দিন, মো. মাসুদ রানা, ইরাক ও জুয়েলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি। এ সময় এলাকাবাসী মন্তব্য করেন, তৈমূর আলম তার সততা, মেধা ও যোগ্যতার কারণে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। নারায়ণগঞ্জের সব স্তরের মানুষ তাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চায়।
শামীম ওসমানের গণসংযোগ : গতকাল সকাল ৯টায় সিদ্ধিরগঞ্জ ৩নং ওয়ার্ডে এবং বিকাল ৩টায় বন্দরের ২১নং ওয়ার্ড এলাকায় উঠান বৈঠক করেন শামীম ওসমান। তার সহধর্মিণী লিপি ওসমান সকালে বন্দরের ২১নং ওয়ার্ড এলাকার শাহী মসজিদ এলাকায় গণসংযোগ ও বিকালে সোনাকান্দা এলাকায় ৩টি উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুবলীগ শহরের ৭টি ওয়ার্ডের নিতাইগঞ্জ মোড়, শীতলক্ষ্যা মোড়, পাইকপাড়া, টানবাজার ইয়ার্ন মার্চেন্ট মোড়, গুলশান সিনেমা হল, জাতীয় পার্টি অফিস এলাকা, চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হলের সামনে ৭টি পথসভা করেন। শামীম ওসমানের পক্ষে মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও জেলা ছাত্রলীগের ৯টি টিম। তারা ৯টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও পথসভা করেছে।
ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভীর গণসংযোগ : ডা. আইভী সকালে ১০নং ওয়ার্ডে ও বিকালে ১৪নং ওয়ার্ডে ৪টি উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ আহ্বায়ক নিজামউদ্দিন, সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জিএম আরাফাত প্রমুখ। এছাড়া তার পক্ষে যুবলীগ সভাপতি আ. কাদির সিদ্ধিরগঞ্জের ১, ২, ৩নং ওয়ার্ডে ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন শহরের ১৪ ও ১৫নং ওয়ার্ডের টানবাজারে ও সিদ্ধিরগঞ্জ ১, ২, ৩নং ওয়ার্ডে যুবলীগ নেতা আ কাদির গণসংযোগ চালান।
আইভী সমর্থককে মারধরের অভিযোগ : শহরের পাইকপাড়া এলাকায় লিফলেট বিতরণকালে মেয়র প্রার্থী আইভীর সমর্থক রনিকে মারধর করেছে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী। গতকাল সকাল ১০টায় পাইকপাড়া দেওয়ানবাড়ী এলাকায় সন্ত্রাসী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল তরুণ তাকে মারধর করে তার লিফলেট কেড়ে নেয়। গতকাল দুপুরে মেয়র প্রার্থী আইভীর শহরের নন্দীপাড়া এলাকায় গণসংযোগকালে রনি সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
শামীম ওসমান ছাত্রলীগ সমর্থিত প্রার্থী : এবার শামীম ওসমানকে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণ দিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম সিদ্দিক। শামীম ওসমানকে সমর্থন জানাতে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে ছুটে আসেন ছাত্রলীগের এ দুই নেতা। গতকাল দুপুরে শহরের চাষাঢ়ায় হীরা মহলে জেলা ছাত্রলীগের এক কর্মিসভায় দুই নেতা শামীম ওসমানকে ছাত্রলীগের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন।
কর্মিসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাফায়েত আলম সানি। উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব দাস প্রমুখ। সভা শেষে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৯টি ওয়ার্ডে শামীম ওসমানের পক্ষে গণসংযোগ চালান। সভায় বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী শামীম ওসমান। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করবে। শামীম ওসমনাকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করতে নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে ছাত্রলীগ থাকবে। নির্বাচনী আচারণবিধি লঙ্ঘিত হবে বলে কেন্দ্র থেকে সরাসরি ঘোষণা দেয়া যাচ্ছে না। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জ সফরে এসে মেয়র পদে শামীম ওসমানকে একের পর এক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।
মোবাইলে পাওয়া যাবে ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের তথ্য : মোবাইল ফোনের একটি মেসেজের মাধ্যমে জানা যাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোটারদের নম্বর ও কেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য। এসএমএসের পাশাপাশি ভোটার স্লিপ বিতরণ করবে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনে ভোট দিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হবে না। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের সুবিধার্থে এসব পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সূত্র এসব তথ্য জানায়।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন গতকাল কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ভোট গ্রহণের দুইদিন আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লিখে এসএমএস করলেই ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পরিচয়পত্র ভোটারদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া ভোট দেয়া যাবে, এতে কোনো সমস্যা হবে না।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ভোটার তথ্য পেতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে ভোটার আইডি নম্বর দিয়ে ইসির নির্দিষ্ট নম্বরে এসএমএস করতে হবে। ফিরতি এসএমএসে কেন্দ্র ও ভোটার নম্বর সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে। এসএমএস পাঠানোর নম্বর গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিগগিরই জানাবে ইসি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে বলে ইসি সূত্রে জানা যায়। এ পদ্ধতিতে ভোটারদের ভোট কেন্দ্র খোঁজার ভোগান্তি দূর হবে বলে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিটি নির্বাচনে অনেক ভোটার ভোট কেন্দ্র খুঁজতে গিয়ে জটিলতায় পড়েন। অন্যদিকে ভোটারদের ভোট দেয়ার সিরিয়াল নম্বর আগে থেকে জানা থাকলে ভোট দেয়ার সময় অনেক কম লাগে। তাই ভোটারদের সঠিক সিরিয়াল নম্বর এবং কেন্দ্র জানিয়ে দিতেই নির্বাচন কমিশন এ ব্যবস্থা নিয়েছে। এছাড়া ভোটার স্লিপ বাবদ প্রার্থীদের যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, সে টাকা নির্বাচনের অন্যান্য প্রচারণায় ব্যবহার করতে পারবে বলেও মনে করেন তারা।

 

সূত্রঃ আমারদেশ

This entry was posted in আমার দেশ. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s