প্রচারকালে হঠাৎ দেখা আইভী-শামীমের

 নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও শামীম ওসমান গতকাল বুধবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এ সময় তাঁরা পরস্পর কুশল বিনিময় করেন।
সেলিনা হায়াৎ আইভী গতকাল নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়েছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায়। একই এলাকায় ছিলেন শামীম ওসমান। দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ মুখোমুখি হন তাঁরা। পরস্পরকে অতিক্রম করার সময় শামীম ছুটে যান আইভীর কাছে। এ সময় দুই নেতার সমর্থকেরা করতালি দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী যুবলীগের জেলা কমিটির সভাপতি আবদুল কাদির জানান, সাক্ষাতের সময় শামীম ওসমান আইভীকে বলেছেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তুমি নির্বাচন থেকে সরে যাও।’ জবাবে আইভী বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে পরে কথা হবে।’ মিনিট দেড়েকের মধ্যেই তাঁরা আবার যে যার পথে রওনা হন।
আইভী গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণা চালান। এ সময় তিনি ভোটারদের বলেন, অতীতের মতোই তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়বেন। শহরে যেভাবে উন্নয়ন করেছেন, সেভাবেই উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাবেন সিদ্ধিরগঞ্জে।
গণসংযোগকালে জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শহীদুল্লাহ, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক নিজামউদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি এম আরাফাত উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন শামীম ওসমান। এ সময় তিনি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন।
গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি ইয়াসিন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক প্রমুখ।
তৈমুরের গণসংযোগ: বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার গতকাল শহরের নিতাইগঞ্জ, টানবাজার, খানপুর, নগর খানপুর, তল্লা, খানপুর রেললাইন, কিল্লারপুল চাষাঢ়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। তিনি ভোটারদের কাছে নির্বাচনী প্রচারপত্র বিলি করেন।
এ সময় তৈমুরের সঙ্গে ছিলেন সাবেক সাংসদ আবুল কালাম, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল প্রমুখ।
আবারও পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ আইভীর: সেলিনা হায়াৎ আইভী অভিযোগ করেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় এখনো তাঁর পোস্টার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।
গতকাল নির্বাচন কমিশনে দেওয়া চিঠিতে সেলিনা হায়াৎ দাবি করেন, বুধবার ভোরে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ীর মোড়ে তাঁর একটি ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেন হুমায়ুন নামের এক ব্যক্তি। এ ছাড়া বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকায়ও তাঁর কিছু পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। এসব ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে আইভী দাবি করেন, শহরের চাষাঢ়ার মূল রাস্তার মোড়ে, সিদ্ধিরগঞ্জ ১ ও ২ নম্বর এলাকায় তাঁর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর ফেস্টুন খুলে নেওয়া হয়েছে।
শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি মহল যেকোনো মূল্যে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। তারাই আইভীর পোস্টার ও ফেস্টুন ছিঁড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রচারে বাধা দিচ্ছে।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুৎফর রহমান বলেছেন, এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
ইভিএম প্রদর্শন অব্যাহত: গতকাল ৯, ১৮ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে কীভাবে ভোট দিতে হবে, সেটিও দেখানো হয়।

 

সূত্রঃ প্রথম আলো | ২০ অক্টোবর ২০১১

This entry was posted in প্রথম আলো. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s