কাউন্সিলর প্রার্থীদের বেশিরভাগের শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২৫০ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর সিংহভাগের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্বাক্ষরজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার স্থলে এসব প্রার্থীর কেউ লিখেছেন ‘অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন’ ‘স্বশিক্ষিত’ ‘স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’ ‘সন্তোষজনক’ এ ধরনের নানা শব্দ। এ স্বশিক্ষিতের বাইরে যারা আছেন তাদের মধ্যে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াদের আধিক্য বেশি। øাতক বা øাতকোত্তর পড়ালেখা আছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা হাতে গোনা ৯ জন। আবার এই ২৫০ প্রার্থীর ৯০ শতাংশেরই পেশা ব্যবসা। রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।
৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে ২৫০ জন কাউন্সিলর প্রার্থী ৫৬ জন সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ৬ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটির ১নং ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের হাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন কাউন্সিলর প্রার্থী। পেশা চুন উৎপাদনকারী, আমদানি ও রফতানিকারক। শিক্ষাগতযোগ্যতা লিখেছেন ‘অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন’। একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী মোঃ ওমর ফারুক ইট-বালু-পাথর সরবরাহকারী। শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী। একইভাবে এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুর রহিম, শামসুল আলম, ছাদেকুর রহমান, রওশন আলী, ওয়াজিউল্লাহ সবার শিক্ষাগত যোগ্যতার স্থলে লেখা ‘স্বশিক্ষিত বা অক্ষরজ্ঞান’ সম্পন্ন। এর বাইরে গোলজার হোসেন, বিলাল হোসেন, মোজাম্মেল হক শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়েছেন অষ্টম শ্রেণী। এক নম্বর ওয়ার্ডের ১৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে হারুনুর রশীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা øাতকোত্তর। আবার এসব প্রার্থীর কারও দরজা-জানালার ব্যবসা, কারও ব্যবসা মাটি-বালি সরবরাহ। কারও জুতা উৎপাদন আবার কেউ বা ঠিকাদার।
২নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ৫ জন। এর মধ্যে তোফায়েল আহমদ ভূঁইয়া লিখেছেন তিনি এসএসসি পাস। পেশা কৃষি কাজ। এছাড়া ইকবাল হোসেন অষ্টম শ্রেণী পাস, সোহরাব হোসেন করেন রডের ব্যবসা। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্বশিক্ষিত, হাজী আবদুর রহিম মিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতাস্থলে লেখা ‘চলনসই’। ভূমি পরিমাপক আবদুল জলিল মিয়া লিখেছেন তিনি এসএসসি পাস।
তিন নম্বর ওয়ার্ডে ১১ কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে তোফায়েল হোসেন ‘স্বশিক্ষিত’, মাহাবুব আলম শিপন ‘স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’, নূর সালাম ‘স্বশিক্ষিত’, আকবর হোসেন ‘স্বশিক্ষিত’, মোঃ হোসেন ‘স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’। এছাড়া মাছুম, আবুল হোসেন নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখেছেন ‘অষ্টম শ্রেণী’। এ ওয়ার্ডে এসএসসি পাস প্রার্থী আছেন ৪ জন। একজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং।’ এদের কারও ব্যবসা ঠিকাদারি, কেউ বা ইট-বালু-সুরকি বিক্রেতা, কারও আছে ‘তিশা পরিবহন’, আবার কেউ বা তরকারি বিক্রেতা। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে আবুল কাসেম এবং ইসমাইল খান শিক্ষাগত যোগ্যতার স্থলে দিয়েছেন ‘নাই’। এর মধ্যে সাগর প্রধান ‘স্বশিক্ষিত’, পেশা জমি ক্রয়-বিক্রয়। শাহজাহানও ‘স্বশিক্ষিত’ পেশা ‘সৌরভ এন্টারপ্রাইজ’। ‘অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’ মহসিন ভূইয়া, পেশা হার্ডওয়্যার দোকান। গোলাম আযম অষ্টম শ্রেণী পাস, পেশা মেসার্স রহমান এন্টারপ্রাইজ। অষ্টম শ্রেণী পাস মাজেদ হোসেন মিনি ট্রাকের ব্যবসা। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া জহিরুদ্দিনের মনোহারি দোকান ব্যবসা। এ ওয়ার্ডে দু’জন এসএসসি, একজন এইচএসসি পাস প্রার্থী আছেন। একই অবস্থা ২৭টি ওয়ার্ডেই। নির্বাচন কমিশন যতই যোগ্য প্রার্থী বলে আওয়াজ তুলুক না কেন লাগামহীন ভোটের দৌড়ে এরা বরাবরই লাপাত্তা। নির্বাচনী ব্যবস্থায় নানা সংস্কারের পরও শিক্ষিত শ্রেণী সহজে এ পথে আসছেন না।

সূত্রঃ যুগান্তর | ২৩ অক্টোবর ২০১১
This entry was posted in যুগান্তর. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s