আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যান: আইভী

 ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আলোচিত মেয়র পদপ্রার্থী ও সাবেক পৌর মেয়র সেলিনা হায়াত্ আইভী। তিনি বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জের জনতার রায়ের অপেক্ষায় আছি। আমার বিশ্বাস, এই রায় হবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে।’
আজ শনিবার প্রথম আলোকে আইভী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের মানুষকে নিয়ে আমি সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে এই পর্যন্ত এসেছি। আমার মনে হয়, আমার প্রিয় নারায়ণগঞ্জবাসী আজ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে। সারা দেশকে তারা দেখিয়ে দেবে, নারায়ণগঞ্জের মানুষ সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অনিয়ম আর অপশাসনের বিরুদ্ধে। আমি জনতার রায়ের অপেক্ষায় আছি।’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপির পরোক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করে সেলিনা হায়াত্ আইভী বলেন, একজন প্রার্থীর ভোট ছিনতাই করার ট্র্যাডিশন আছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে তাঁর ভাইয়ের পক্ষে লাঙল মার্কায় ভোট চেয়েছেন। ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেননি। এখন জঙ্গি হামলার কথা বলে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা জনগণের মধ্যে ভয় ছড়ানো হচ্ছে।
আইভী বলেন, নির্বাচনের দিন কোনো গোলযোগ হলে নির্বাচন কমিশনকেই (ইসি) দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব ইসির। নির্বাচনের দিন গণমাধ্যমকেও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান আইভী।

শামীমের ভাইদের বিষয়ে ইসিকে আইভীর চিঠি: নারায়ণগঞ্জে ভোট চলাকালে শামীম ওসমানের দুই ভাইকে ‘প্রভাব খাটানো’ থেকে বিরত রাখতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন সেলিনা হায়াত্ আইভী। এ ছাড়া ‘বহিরাগত ও সন্ত্রাসীদের’ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও চিঠিতে দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আজ জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তাকে আইভীর পক্ষে পৃথক দুটি চিঠি দেন তাঁর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আনোয়ার হোসেন।
চিঠিতে বলা হয়, ‘ভোট গ্রহণের সময় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ এ কে এম নাসিম ওসমান ও তাঁর ভাই বিকেএমইএ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এবং নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি সেলিম ওসমান যেন ভোট দেওয়া ছাড়া কেন্দ্রে বা অন্য কোথাও গিয়ে প্রভাব বিস্তার, হুমকি প্রদান ও প্রচার করতে না পারেন, সে ব্যাপারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—এটাই আমাদের একান্তভাবে কাম্য।’
আরেক চিঠিতে বলা হয়, ‘২৮ অক্টোবর থেকে বহিরাগত বেশ কিছু ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ ক্লাব ও রাইফেলস ক্লাবে অবস্থান নিয়েছে। তাদের কেউ কেউ গতকাল শুক্রবারও ডন চেম্বার এবং মিশনপাড়ায় দেয়াল ঘড়ি মার্কার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। এ ছাড়া পুরান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেশ কিছু সন্ত্রাসী নারায়ণগঞ্জে আসছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’ এসব বহিরাগত ব্যক্তি ও সন্ত্রাসী যেন নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তারসহ কোনো নাশকতামূলক বা অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।
জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুত্ফর রহমান বলেন, ভোট চলাকালে ভোট দেওয়া ছাড়া কোনো ধরনের প্রভাব খাটানো হচ্ছে কি না বা প্রচারণা করছে কি না, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সার্বিক বিষয়টি র্যাব কমান্ডারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হবে।

 

সূত্রঃ প্রথম আলো | ২৯ অক্টোবর ২০১১

This entry was posted in প্রথম আলো. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s