ইভিএমে সন্তুষ্ট ভোটাররা

 প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা।

নারায়ণগঞ্জে রোববার ২৭ ওয়ার্ডের ৯টির ৫৮টি কেন্দ্রের ৪৫০টি বুথে একটি করে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। এসব ওয়ার্ডের ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৯ জন।

নারায়ণগঞ্জের আগে গত বছরের জুনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে একটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হলেও বড় পরিসরে এ প্রযুক্তির ব্যবহার দেশে এই প্রথম।

ইভিএম প্রযুক্তিতে সহজে ও কম সময়ে ভোট দেওয়া যায় বলে আগামীর সব নির্বাচন এ পদ্ধতিতেই হওয়া উচিত বলে মনে করেন অনেকে। এ ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতিও ছিলো লক্ষ্যণীয়।

শীতলক্ষ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে জমির উদ্দিন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “টিপ দিয়েই ভোট শেষ। সময়ও কম লাগে। বেশ লাগলো।”

প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামও এ প্রযুক্তি ব্যবহারে ভোটারদের ইতিবাচক মানসিকতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “প্রতিটি বুথের সামনে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি রয়েছে। যে কেউ এসে ভোটের আগে তা দেখেই ভোট দিতে পারছে। ঝামেলার অবকাশ নেই।”

শিশুবাগ স্কুল কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট দিয়ে দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা আসমা আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ” আমার অনেক ভালো লেগেছে। খুব কম সময়ে ভোট দেওয়া যায়।”

নতুন এ পদ্ধতিতে ভোট দিতে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানান পঞ্চাশোর্ধ্ব এই ভোটার।

ইভিএমে এক মিনিটের মধ্যে ভোট দিতে পেরে অনেক খুশি ব্যবসায়ী সুজন। আগামি সব নির্বাচনে এ পদ্ধতিতেই ভোট নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

একই কেন্দ্রের ভোটার সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আগে কখনো এই মেশিন না দেখলেও ভোট দিতে কোনো সমস্যা হয়নি।”

নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা লোকজন সহায়তা করছেন বলে জানান তিনি।

ইভিএম ব্যবহারে ভোটারদের কীভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে শিশুবাগ স্কুলের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সৈয়দ মুহাম্মদ আবদুরহু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা তাদের বলছি পছন্দের প্রতীকের পাশের বোতামে টিপ দেবেন। এতেই তারা (ভোটার) বুঝে যাচ্ছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার দরকার হচ্ছে না।”

ইভিএম-এ ভোট দেওয়া নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি বলেও জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ইভিএম প্রযুক্তিতে ভোটারদের সাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “ওই কেন্দ্রগুলোয় কোনো ধরনের ঝামেলা হয়নি। এজেন্টদের সন্তোষের মধ্য দিয়েই সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ নিয়ে কারো সন্দেহেরও অবকাশ নেই।”

সকালে তিন থানার নয়টি ওয়ার্ডের সব কয়টি কেন্দ্রে ইভিএমের যান্ত্রিক অবস্থার খোঁজ নেন এ প্রযুক্তির কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান বুয়েটের আইআইসিটির পরিচালক অধ্যাপক লুৎফুল কবির।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রথমবার এ প্রযুক্তিতে ভোটগ্রহণ হচ্ছে বলে কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরু করতে একটু দেরি হয়েছে। কয়েকটি যন্ত্রে ব্যালট ইউনিট নিয়ে ঝামেলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ঠিক করা গেছে।

প্রতিটি কেন্দ্রে একটি করে অতিরিক্ত ইভিএম রাখা ছিলো বলে জানান কবির।

তিনি বলেন, “এবারো এ প্রযুক্তি ব্যবহারে সফল হবে ইসি। ভোটারদের উৎসাহও আমাদের মুগ্ধ করেছে। সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছে।”

সকালে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ-জানিপপ’র এর কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। আমাদের কাছে ভালো মনে হচ্ছে।”

নির্বাচন কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে আরেক পর্যবেক্ষক কিবরিয়া বলেন, “নট ব্যাড।”

আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ইভিএম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান ভোটের আগ পর্যন্ত ইভিএমের পক্ষে কথা বললেও ভোটের দিন দুপুরে তিনি অভিযোগ তোলেন, ইভিএমে কারচুপি হচ্ছে।

ইভিএমে আপত্তি জানিয়ে আসা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার শনিবার মধ্যরাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

 

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪ | ৩০ অক্টোবর ২০১১

This entry was posted in বিডিনিউজ২৪. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s