প্রথম নারী মেয়র হচ্ছেন আইভী

 মেয়র নির্বাচনে ঘোষিত তিন-চতুর্থাংশের বেশি কেন্দ্রের ফলাফলে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৯৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পেছনে ফেলে নারায়ণগঞ্জের প্রথম মেয়র হওয়ার পথে সেলিনা হায়াৎ আইভী।

দিনভর ভোটগ্রহণের পর নারায়ণগঞ্জে জিয়া হলে স্থাপিত নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে রোববার রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত ১৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টির ফলাফল ঘোষণা হয়।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আইভী তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানের চেয়ে ৯৫৪৫৮ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

১৫০টি কেন্দ্রে দোয়াত কলম প্রতীকে আইভী পেয়েছেন ১৬৭৭৪৬ ভোট। অন্যদিকে দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে শামীম পেয়েছেন ৭২২৮৮ ভোট।

তবে সব কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে আইভীর সমর্থকরা বলছেন, সোয়া এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন আইভী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম শুধু কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করছে, যা জানাচ্ছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুৎফর রহমান।

সেলিনা হায়াৎ আইভীর ফেইসবুক ফ্যানপেইজেও ভোট গণনার বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে। তাতে দেখা যায়, ১৬৩ কেন্দ্রের ফলাফলে আইভী ১ লাখ ২৪ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আইভী নিজেও জয়ী হওয়ার দাবি করে সাংবাদিকদের বলেছেন, তার এ জয় জনতার জয়।

তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ফলাফল নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষে শামীম ওসমানের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তার হোসেন, আইভীর পক্ষে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রার্থী আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী ও আতিকুল ইসলাম জীবন উপস্থিত রয়েছেন।

সেনা মোতায়েন না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নতুন এ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় শান্তিপূর্ণভাবে।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিলেন ৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার নির্বাচন কর্মকর্তা।

দেশে দ্বিতীয় বারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হয় এ নির্বাচনে। ৯টি ওয়ার্ডের ৫৮টি কেন্দ্রের ৪৫০টি বুথে একটি করে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। ভোটের সময় কয়েকটি ইভিএমে জটিলতা দেখা দিলেও পরে তা ঠিক করা হয়।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এ নির্বাচনে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা দিয়ে ২০টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণও পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচন কমিশন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বিশ্বাস লুৎফুর রহমান জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আট হাজারেরও বেশি সদস্য এই নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। এর মধ্যে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের চার হাজার, আনসার ও ভিডিপি সদস্য আড়াই হাজার, কোস্ট গার্ডের একশ এবং এক হাজার চারশ’ র‌্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

দেশি ১৮টি এবং বিদেশি আটটি পর্যবেক্ষক সংস্থার হাজার খানেক পর্যবেক্ষক এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত আটশ’রও বেশি সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী।

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪ | ৩০ অক্টোবর ২০১১

This entry was posted in বিডিনিউজ২৪. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s