আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কুমিল্লার সব ওয়ার্ডে ইভিমে ব্যবহারের পরিকল্পনা

নারায়ণগঞ্জের নয়টি ওয়ার্ডে সাফল্য পাওয়ার পর এবার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে সব ওয়ার্ডের ভোটগ্রহণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “কুমিল্লা নির্বাচন হবে শতভাগ ইভিএমে। এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ভোটারদের সচেতন করতে ঈদের পরপরই প্রচার শুরু হবে।” কুমিল্লায় সবকটি ওয়ার্ডে ইভিএম ব্যবহারে কমিশনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইসির উপ সচিব ও কুমিল্লার নবনিযুক্ত উপ-নির্বাচন কমিশনার আব্দুল বাতেনও।

গত বছরের জুনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো একটি ওয়ার্ডের ১৪টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। সেখানে সাফল্য পাওয়ার পর আরো একটু বড় পরিসরে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করে ইসি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯টির ৫৮টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হয়। প্রাথমিকভাবে ভোটারদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা দেখা গেলেও ভোট দেওয়ার পর এ প্রযুক্তির পক্ষে বলেছেন অধিকাংশ ভোটার।

নির্বাচন কমিশনের হয়ে ইভিএমের কারিগরি বিষয়টি দেখভাল করছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আইআইসিটির পরিচালক অধ্যাপক লুৎফুল কবির।
তিনি বলেন, “আগামীতে যেখানে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, সেখানে আগে থেকেই প্রচার চালানোর সুপারিশ করেছি আমরা। নারায়ণগঞ্জে মক ভোটিং ও ইভিএম নিয়ে পর্যাপ্ত প্রচার হয়নি।”

নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী বেসরকারী সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক তোফালে আহমেদ বলেন, “ইভিএম নিয়ে ইসির পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। যন্ত্র সঠিক থাকলেও মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বাড়াতে বেশি প্রচার চালাতে হবে।” জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের আগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গত ১০ জুলাই কুমিল্লা পৌরসভা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ পৌরসভা এলাকাকে একীভূত করে দেশের অষ্টম সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করা হয়। আগের দুই পৌরসভা মিলে এ কর্পোরেশনে ওয়ার্ড রয়েছে ২৭টি। গত ৭ অগাস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. নাসির উদ্দিনকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অবশ্য সীমানা পুনর্র্নিধারণ সংক্রান্ত জটিলতায় গেজেট প্রকাশে দেরি হওয়ায় বর্তমান কমিশন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন করে যেতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, আইন অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। সে অনুযায়ী জানুয়ারির শুরুতেই কুমিল্লার নির্বাচন হওয়া উচিৎ।

“তবে এখনো সীমানা পুনর্বিন্যাস করে গেজেট হয়নি। ওয়ার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটার তালিকাও বিন্যাস্ত করতে হবে। আমরা প্রস্তুত। নভেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গেজেট পেলে যথাসময়ে নির্বাচন হবে। তবে আমাদের সময়ের মধ্যে এ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ”, বলেন তিনি।

উল্লেখ্য আগামী ফেব্রুয়ারিতে এটিএম শামুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

সূত্রঃ কুমিল্লাওয়েব | ৮ নভেম্বর ২০১১

This entry was posted in কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, কুমিল্লাওয়েব. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s