কুমিল্লায় শতভাগ কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা

নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে সাফল্য পাওয়ায় এবার কুমিল্লায় অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে শতভাগ কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করতে চায় নির্বাচন কমিশন। নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সূত্রে পাওয়া ফলাফলের আলোকে কুমিল্লার নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলো অনলাইনকে এ কথা জানিয়েছেন।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ইভিএমের সাফল্য সম্পর্কে আমাদের কোনো সংশয় ছিল না। কারণ চট্টগ্রামেও আমরা এটি ব্যবহার করে সফল হয়েছি। নারায়ণগঞ্জে সাফল্য পাওয়ায় এখন আমরা কুমিল্লায় শতভাগ কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছি।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করে শতভাগ সাফল্য এসেছে বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইভিএম ব্যবহার হওয়া বেশির ভাগ কেন্দ্রেই ভোট গ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা করতে সময় লেগেছে এক-দেড় ঘণ্টা।
গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ১৬৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ৫৮টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। যদিও ভোট গ্রহণের আগে বিজয়ী প্রার্থী সেলিনা হায়াত্ আইভী এবং পরাজিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার (ভোট গ্রহণের আগের রাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান) ইভিএমের সাফল্যের ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন শেষে তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।
প্রতিবেদন সূত্র জানায়, ইভিএম ব্যবহার হওয়ায় অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রেই ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময় বিকেল চারটায়। ভোট গ্রহণ শেষে ১৭টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা গেছে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে। এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে আরও ১৫টির এবং বাকি কেন্দ্রগুলোর ফল ঘোষণা করা হয় দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে। সবচেয়ে কম সময় ৪৫ মিনিটে ফল ঘোষণা করা হয় গোদনাইলের হলি উইলস স্কুল, আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এইচএম শাহ রোডের বিএম ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে। এই তিন কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষ হয় বিকেল চারটায়। ফল ঘোষণা করা হয় চারটা ৪৫ মিনিটে।
প্রতিবেদন সূত্রে আরও জানা যায়, নির্বাচনে মোট ভোট পড়ে ৬৯ শতাংশ। তবে ইভিএম ব্যবহার হওয়া কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৭১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৪ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোট পড়ে নবীগঞ্জের কদম শরীফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ ছাড়া নবীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৩ দশমিক ৯৩, আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৩ দশমিক ১৭, কাইতাখালী কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮২ দশমিক ২১ এবং কবি নজরুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮১ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট পড়ে। সবচেয়ে কম ভোট পড়ে (৫৮ দশমিক ১৫ শতাংশ) এনায়েত নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।
ইভিএম ব্যবহার হওয়া ৫৮টি কেন্দ্রের মোট ভোটার এক লাখ ৪৮ হাজার ৬৩০ জন। এর মধ্যে ভোট দেন এক লাখ ছয় হাজার ৫১৫ জন। সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ৫৫ ভোট পান সেলিনা হায়াত্ আইভী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম ওসমান পান ২২ হাজার ৯৯০ ভোট।

সূত্রঃ প্রথম আলো | ২০ নভেম্বর ২০১১

This entry was posted in কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, প্রথম আলো. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s